বিমানবন্দরে তল্লাশির নামে কোরীয় নারীর শ্লীলতাহানি, স্যাটসের কর্মী গ্রেপ্তার
ভারতের বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির নামে দক্ষিণ কোরিয়ার এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারপোর্ট সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্যাটসের এক গ্রাউন্ড স্টাফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম মোহাম্মদ আফান (২৫)। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। খবর এনডিটিভির।
ভুক্তভোগী ওই নারী একজন ব্যবসায়ী। সোমবার সকাল পৌণে ১১টার দিকে তিনি টার্মিনাল-২ দিয়ে কোরিয়াগামী বিমানে ওঠার জন্য ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষ করে ভেতরে যাচ্ছিলেন। সে সময় মোহাম্মদ আফান তাকে থামিয়ে বোর্ডিং পাস দেখতে চান। আফান দাবি করেন, ওই নারীর চেক-ইন করা ব্যাগে কিছু সমস্যা রয়েছে। সেখান থেকে বিপ শব্দ শোনা গেছে। নিয়মিত স্ক্রিনিং কাউন্টারে ফিরে গেলে বিমান মিস করার ভয় দেখিয়ে আফান তাকে ‘ম্যানুয়াল ফ্রিস্কিং’ বা হাতে তল্লাশির কথা বলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আফান ওই নারীকে পুরুষদের শৌচাগারের পাশের একটি নিরিবিলি এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তল্লাশির ছলে তিনি ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে আপত্তিকরভাবে হাত দেন। নারী প্রতিবাদ করলে আফান তাকে জড়িয়ে ধরে ‘থ্যাংক ইউ’ বলে সেখান থেকে চলে যান।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী নারী বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মীদের বিষয়টি জানান। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর পুলিশ মোহাম্মদ আফানকে গ্রেপ্তার করে। তাকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৭৫ নম্বর ধারায় (যৌন হয়রানি) অভিযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পারাপ্পানা অগ্রহারা কেন্দ্রীয় কারাগারে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
এয়ার ইন্ডিয়া স্যাটস এই ঘটনাকে ‘অমার্জনীয়’ হিসেবে বর্ণনা করে তাৎক্ষণিকভাবে মোহাম্মদ আফানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার জন্য গভীরভাবে দুঃখিত এবং ভুক্তভোগীকে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, একমাত্র সিআইএসএফের নারী কর্মীরাই নারী যাত্রীদের শারীরিক তল্লাশি করার অধিকার রাখেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক