সেলফি তুলে বান্ধবীকে হত্যা, পরে ছবি হোয়াটসঅ্যাপে
বান্ধবীকে নিয়ে চা-বাগানে বেড়াতে যাওয়া, সেলফি তোলা —সব ভালোই চলছিল। কিন্তু ফেরার পথে ওই বান্ধবীকেই হত্যা করে আগের সেলফি হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উত্তরাখন্ডের দুন ভ্যালির এক চা-বাগানে এমনটিই ঘটিয়েছেন এক তরুণ।
আকাশ কুমার মনু নামে (২৭) ত্যাগি রোডের এক বাসিন্দা প্রেমনগর চা-বাগান স্টেটে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে আসেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর বিবাহিত মেয়েবন্ধু গুরপ্রিত কৌর (৩০)। পরে ফেরার সময় একটি কাপড় জড়িয়ে ওই বান্ধবীকে হত্যা করেন আকাশ কুমার। গলায় কাপড় পেঁচিয়ে ধরলে চিৎকার করতে থাকেন গুরপ্রিত। কিন্তু লোকজন হাজির হওয়ার আগেই নির্জন রাস্তায় তাঁকে হত্যা করে মোটরসাইকেল রেখেই পালিয়ে যান আকাশ।
পরে পুলিশ এসে ফেলে রেখে যাওয়া আকাশের মোটরসাইকেল জব্দ করে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, আকাশের মধ্যে পুলিশ এড়ানোর কোনো চেষ্টাই ছিল না। বরং হত্যার আগে তোলা সেলফি দিয়ে নিজের হোয়াটসঅ্যাপে দিয়েছে সে। একই সঙ্গে ওই নারীকে শেষ করা হয়েছে এমন বার্তাও পাঠানো হয়েছে কয়েকজনকে।
পুলিশের ধারণা, গুরপ্রিত আর আকাশের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একই সঙ্গে আরো কিছু ব্যক্তিও এতে যুক্ত। কারণ হত্যার পরপরই ওই কথা হোয়াটসঅ্যাপে কয়েকজনকে জানিয়ে দেন আকাশ কুমার।
তদন্তে আরো জানা গেছে, গুরজিত সিং নামক এক ব্যক্তির সঙ্গে পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল গুরপ্রিতের। আর এই দম্পতি ছিলেন আকাশের বাড়ির ভাড়াটিয়া। দুই মাস আগে ওই দম্পতি বাসা ছেড়ে দিয়ে দেরাদুনের রেস্ট ক্যাম্পের একটি বাড়িতে ওঠেন।
এদিকে নিহত গুরপ্রিতের স্বামী গুরজিতের দাবি, কুমার তাঁদের কাছ থেকে দুই লাখ রুপি ধার নিয়েছিলেন। ওই অর্থ ফেরত চাইলে তাঁর স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন আকাশ।

অনলাইন ডেস্ক