উগান্ডার নির্বাচনে মুসেভেনি এগিয়ে, খোঁজ নেই বিরোধী নেতার
উগান্ডার সেনাবাহিনী দেশটির বিরোধী দলীয় নেতা ববি ওয়াইনকে তার বাড়ি থেকে অপহরণ করার দাবি অস্বীকার করেছে। এদিকে, আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবরের মধ্য দিয়ে দেশটিতে নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
অন্যদিকে, ৮১ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি তার ৪০ বছরের শাসনকাল আরও দীর্ঘায়িত করে আবারও বিজয়ী ঘোষিত হওয়ার পথে রয়েছেন। সাবেক গায়ক থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া ববি ওয়াইনের তুলনায় তিনি বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন, প্রাথমিক ফলাফল সেটাই দেখাচ্ছে।
শুক্রবার ওয়াইন জানিয়েছিলেন, তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তার দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখে যে, তাকে তার বাসভবন থেকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে ‘জোর করে তুলে নেওয়া হয়েছে।’
তবে উগান্ডার সেনাবাহিনী এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ক্রিস মাজিজি এএফপি-কে বলেন, তার তথাকথিত গ্রেপ্তারের গুজব ভিত্তিহীন। তিনি আরও যোগ করেন, এসব গুজব তার সমর্থকদের সহিংসতায় উসকে দেওয়ার জন্য ছড়ানো হচ্ছে।
এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে ওয়াইনের বাসভবনের বাইরে পরিস্থিতি শান্ত ছিল। তবে অব্যাহত যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে তারা রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। ২৯ বছর বয়সী প্রিন্স জেরার্ড নামের একজন স্থানীয় দোকানদার জানান, গত রাতে তিনি ওই বাড়ির ওপর ড্রোন এবং হেলিকপ্টারের শব্দ শুনেছেন এবং সেখানে ব্যাপক নিরাপত্তা উপস্থিতি ছিল। তিনি বলেন, ‘অনেক মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। আমরা প্রচণ্ড আতঙ্কে আছি।’
উগান্ডার নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, শুক্রবার পর্যন্ত ৮০ শতাংশেরও বেশি ভোট গণনায় মুসেভেনি ৭৩.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন, যেখানে ওয়াইন পেয়েছেন ২২.৭ শতাংশ। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর নাগাদ চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
৪৩ বছর বয়সী ববি ওয়াইন, যার প্রকৃত নাম রবার্ট কিয়াগুলানি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসেভেনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হন। রাজধানী কামপালার বস্তি এলাকায় বেড়ে ওঠায় তিনি নিজেকে ‘ঘেটো প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক ব্যালট জালিয়াতি এবং ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সুযোগে তার দলের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছেন। নির্বাচনের আগে বৃহস্পতিবার থেকে এই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে যা আজ শনিবারও অব্যাহত ছিল।
ওয়াইনের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস গত সপ্তাহে বলেছিল যে, উগান্ডায় বিরোধীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন এবং ভীতি প্রদর্শনের পরিবেশে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সহিংসতা
বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই এই নির্বাচনকে একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখে আসছেন। ১৯৮৬ সালে ক্ষমতা দখলকারী সাবেক গেরিলা যোদ্ধা মুসেভেনি রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন এবং তার শাসনামলে যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে কঠোরভাবে দমন করেছেন।
নির্বাচনের দিনটি যান্ত্রিক বিভ্রাটের কারণে ভোটের কাজ বিঘ্নিত হয়েছিল। ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত বায়োমেট্রিক মেশিনগুলো অকেজো হয়ে পড়ে এবং অনেক এলাকায় কয়েক ঘণ্টা ধরে ব্যালট পেপার পৌঁছায়নি।
দেশের অন্যান্য অংশেও বিরোধীদের ওপর সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। মধ্য উগান্ডার বুতাম্বালা এলাকার ববি ওয়াইনের দলের সংসদ সদস্য মুয়াঙ্গা কিভুম্বি ফোনে এএফপি-কে জানিয়েছেন যে, তার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনী তার ১০ জন নির্বাচনি এজেন্টকে হত্যা করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক