ভারতে দাবদাহ, দিনে রান্নার ওপর নিষেধাজ্ঞা!
প্রচণ্ড গরমে চলতি মাসে ভারতে তিন শতাধিক মানুষ মারা যাওয়ার পর দেশটির বেশ কিছু স্থানে দিনের বেলা রান্না করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ভারতের খরাপ্রবণ কিছু অঞ্চলে রান্নার চুলা থেকে আগুন লেগে ৮০ জনের বেশি নিহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, গত কিছুদিনের মধ্যে প্রচণ্ড খরা, গরম আর ঝড়ো হাওয়ার কারণে চুলা থেকে দাবানলের মতো করে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ফলে এই সপ্তাহে বিহারের পূর্বাঞ্চলে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সব ধরনের রান্না নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয়দের রাতে রান্নার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গ্রামের খড়, ছন বা কাঠের তৈরি ঘরগুলোতে যেহেতু সহজে আগুন লাগে তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে আগুন লাগার ঘটনা কমবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের।
শুধু দিনের বেলা রান্নার ওপরই নয়, ধর্মীয় বিভিন্ন আচার পালনের জন্য আগুন জ্বালানোর ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
বিহার রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ভিয়াস এপিকে বলেন, ‘আমরা এই সময়কে আগুন লাগার ঋতু বলি। পশ্চিম দিক থেকে বহমান শক্তিশালী বাতাস সহজেই আগুনকে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে, যার ফলে ভয়াবহ ক্ষতি হয়ে যায়।’
প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে ভারতের অনেক অঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানির অভাব ও গরমের কারণে মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত পশুও মারা যাচ্ছে। দেশটির বহু মানুষ দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পানিটুকুও পাচ্ছে না।
দেশটির মহারাষ্ট্র ও গুজরাট রাজ্যের বেশির ভাগ অঞ্চলের নদী, পুকুর ও হ্রদগুলো শুকিয়ে গেছে। প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি নিচে নেমে গেছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর।
কিছু কিছু অঞ্চলে অবস্থা এতটাই খারাপ যে সরকারকে ট্যাঙ্ক ভর্তি পানি পাঠিয়ে স্থানীয় জনগণের প্রাণ বাঁচাতে সহায়তা করতে হচ্ছে। মৌসুমি বর্ষার এখনো দেখা মেলেনি। জুনের আগে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।
চলতি মাসে গরমে ওডিশায় ১১০ জন, তেলেঙ্গানায় ১৩৭ এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ৪৫ জন মারা গেছে। এসব স্থানে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে। অবশ্য এই তাপমাত্রা অন্য বছরের চাইতে ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। সাধারণত এপ্রিল মাসে ৩৯-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে। মে মাসে তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশে টেলিভিশন ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে স্থানীয়দের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক