ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় নিহত ৪০
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিক এবং সৈন্যসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ভেনেজুয়েলার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। খবর আনাদুলুর।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থল বাহিনী মোতায়েনের আগে ভেনেজুয়েলার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করার লক্ষ্যে এক বিশাল বিমান অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে ১৫০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান অংশ নেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করা হয়, যাতে সামরিক হেলিকপ্টারগুলো নিরাপদে মাদুরোর অবস্থানে পৌঁছাতে পারে ও আক্রমণকারী সৈন্যদের সেখানে নামিয়ে দিতে পারে। তবে এই অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ৯৩ জানুয়ারি) ভোরে এই অভিযানের সাফল্য ঘোষণা করেন। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী এক রাতারাতি অভিযানে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে ভেনেজুয়েলা থেকে সরিয়ে নিয়েছে।
ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেন, ‘একটি নিরাপদ, সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত ক্ষমতা হস্তান্তর বা রূপান্তর নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীই ভেনেজুয়েলা শাসন করবে।’ তাঁর এই ঘোষণা ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
মাদুরোকে আটকের পরপরই নিউ ইয়র্কের দক্ষিণ জেলার ফেডারেল প্রসিকিউটররা একটি নতুন অভিযোগপত্র প্রকাশ করেছেন। এতে মাদুরো দম্পতির বিরুদ্ধে ‘টন টন কোকেন’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাচারসহ আরও বেশ কিছু গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মার্কিন এই সামরিক অভিযান নিয়ে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা বলেছেন, এটি সরাসরি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। মার্কিন কংগ্রেসকে এড়িয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই অভিযানের ফলে ভেনেজুয়েলাসহ সমগ্র লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার রাজপথ ও প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলো মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ৪০ জন নিহতের খবর প্রচার হওয়ার পর দেশটিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক