যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বৈঠক বাতিল, বিক্ষোভকারীদের প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন এবং তেহরানের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের ‘নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান দখলে নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘সহায়তা আসছে’, তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত জানাননি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিষয়টিও তিনি প্রকাশ্যে বিবেচনায় নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন। খবর আল জাজিরার।
ট্রাম্প লেখেন, ইরানি দেশপ্রেমিকরা, আন্দোলন চালিয়ে যাও—নিজেদের প্রতিষ্ঠান দখল করো। খুনিদের ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করো, তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।
আরেক পোস্টে তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছেন। তিনি লেখেন, ‘সহায়তা আসছে। মিগা!!! (মাগা)’
গত সপ্তাহজুড়ে ট্রাম্প সতর্ক করে আসছেন, ইরানের সরকার যদি আন্দোলনকারীদের ওপর কঠোর দমন–পীড়ন চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলায় যেতে পারে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) তিনি ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের বাণিজ্য করা দেশকে ২৫ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়তে হবে। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একটি সতর্কতা জারি করে ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ‘অবিলম্বে দেশ ত্যাগের’ আহ্বান জানায়।
‘সহায়তা আসছে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে—এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা তোমাদেরই বুঝে নিতে হবে, দুঃখিত।’
পরে সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান সরকার যদি আন্দোলনকারীদের ফাঁসি দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্ত পদক্ষেপ’ নেবে। তবে তিনি এখনো হতাহতের ‘সঠিক সংখ্যা’ পাননি বলেও উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে এবং এর অপ্রত্যাশিত পরিণতি হতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্টের পরিচালক আলী ভায়েজ আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের মানুষ এখন একটি দমনমূলক শাসনব্যবস্থা ও বিদেশি আগ্রাসনের মাঝখানে আটকে আছে। যদি রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্ব ভেঙে দেওয়া হয়, তাহলে পরে কী হবে? ভেতরে এমন কোনো সংগঠিত শক্ত বিরোধী পক্ষ নেই, যারা সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতা নিতে পারবে।
আলী ভায়েজ আরও বলেন, শীর্ষ নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হলে দেশটি লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন বা ইরাকের মতো গৃহযুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলার দিকে যেতে পারে।
এদিকে ইরানের বাইরে অবস্থানরত মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আন্দোলনে এখন পর্যন্ত কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ গত পাঁচ দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ বরাবরের মতোই এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে। দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা আবদোলরহিম মৌসাভি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আইএসআইএল (আইএস) সদস্যদের ইরানে মোতায়েন করেছে—যদিও তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, বিদেশ থেকে ‘সন্ত্রাসী এজেন্টদের’ পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন অডিও রেকর্ড তাদের কাছে আছে।
মঙ্গলবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি বলেন, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ইরানের জনগণের প্রধান হত্যাকারী’।
এরই মধ্যে ফ্রান্স ও কাতারসহ কয়েকটি দেশ উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানী ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে কাতারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মঙ্গলবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারোর সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক