ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে তিন দেশের ‘নিরাপত্তা বৈঠক’ আরব আমিরাতে
ইউক্রেনে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথমবারের মতো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইউক্রেন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার (২৩ ও ২৪ জানুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। খবর কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরার।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার শর্তগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বিষয়েও একটি চুক্তি প্রায় প্রস্তুত। কিয়েভ সমর্থিত এই প্রস্তাবনাটি আগের একটি মার্কিন পরিকল্পনার পাল্টা অবস্থান হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। আগের প্রস্তাবটিকে মস্কোর প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল বলে মনে করা হচ্ছিল।
জেলেনস্কি এই আলোচনাকে দেশগুলোর মধ্যে ‘প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠক‘ হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টিকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন, যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে তার বৈঠককে ‘ভালো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, তবে যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টাকে তিনি একটি ‘চলমান প্রক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের এই আলোচনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে এবং এখন মাত্র একটি বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, উভয় পক্ষ চাইলে এই শেষ সমস্যাটিও সমাধানযোগ্য। উইটকফ আবুধাবি যাওয়ার আগে মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আবুধাবিতে সামরিক পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে। জেলেনস্কির মতে, শুক্র ও শনিবারের এই আলোচনায় তিন দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, পুতিনের প্রতি তার বার্তা হলো- ইউক্রেন যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ হতে হবে। অন্যদিকে জেলেনস্কি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠককে ‘ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, নথিপত্রগুলো এখন আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলেনস্কি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বক্তৃতাকালে পুতিনের আন্তর্জাতিক বিচারের দাবি জানান এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় ইউরোপে জব্দ করা রুশ সম্পদ ব্যবহার না করায় মিত্রদের সমালোচনা করেন। জেলেনস্কি বলেন, ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় যুদ্ধের এটি চতুর্থ বছর, অথচ যুদ্ধ শুরু করা ব্যক্তিটি কেবল মুক্তই নন বরং ইউরোপে তার জব্দ করা অর্থের জন্য রীতিমতো লড়াই করছেন।
মার্কিন দূত উইটকফ শেষ বাধাটির কথা উল্লেখ করেছেন তা স্পষ্ট না হলেও, জেলেনস্কি ডিসেম্বরে জানিয়েছিলেন, মূল সমস্যা দুটি হলো- রাশিয়ার দখলে যাওয়া ভূখণ্ডের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ এবং দক্ষিণ ইউক্রেনে রাশিয়ার দখলে থাকা জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, পুতিন ও জেলেনস্কি একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন এবং এখন চুক্তি না করলে তারা উভয়েই বোকামি করবেন। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে রাশিয়া, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে ট্রাম্পের বারবার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও সতর্ক করে বলেছেন, শান্তি আলোচনা চললেও ইউক্রেনে তাদের সামরিক সহায়তা চালিয়ে যেতে হবে, কারণ শান্তি চুক্তি রাতারাতি হবে না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক