বিক্ষোভে প্রাণহানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যোগসূত্র রয়েছে : খামেনি
ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে সহিংসতা ও প্রাণহানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। খবর আল জাজিরার।
আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, ইরানেবিরোধী সর্বশেষ বিক্ষোভ ও রাষ্ট্রদ্রোহের ঘটনাটি ছিল ভিন্ন, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে এতে জড়িত ছিলেন।
বিদেশিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা ব্যাপক রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী উল্লেখ করে খামেনি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে।
ইরানি সরকার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার জন্য বিদেশি শক্তির দিকে আঙুল তুলেছে। দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের, বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে অস্থিতিশীলতাকে উসকে দেওয়া এবং স্থলভাগে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অভিযুক্ত করেছে দেশটি।
খামেনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা দেশকে যুদ্ধে টেনে নেব না, তবে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক অপরাধীদেরকে শাস্তি ছাড়াই ছেড়ে দেব না।’
ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘পূর্ববর্তী বিক্ষোভগুলোতে মার্কিনিদের হস্তক্ষেপ কম ছিল, তবে এবার ইরানের বিরুদ্ধে এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।’
বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংগঠন এইচআরএএনএ বলেছে, বিক্ষোভে তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন।
খামেনি আজ প্রথমবারের মতো দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কেউ হাজার হাজার হতাহতের বিষয়ে কথা বললেন। ইরানি কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, বিক্ষোভ থেকে প্রায় তিন হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিক্ষোভে জড়িতরা বিদেশিদের কাছ থেকে কৌশল, অর্থায়ন ও প্রশিক্ষণ পেয়েছিল। খামেনি ট্রাম্পকে ‘এই চক্রান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে’ রেখেছেন।
এদিকে শনিবার আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, আট দিন প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ রাখার পর কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশব্যাপী সংক্ষিপ্ত বার্তা পরিষেবা (এসএমএস) পুনরায় চালু করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক