ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক করার কথা ভাবছে ইরান
দীর্ঘ ১০ দিন ধরে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার পর এবার তা ধীরে ধীরে চালুর কথা ভাবছে ইরান সরকার। গত ৮ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে চলা নজিরবিহীন এই ‘কমিউনিকেশন ব্ল্যাকআউট’ ধাপে ধাপে শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে ইন্টারনেট সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইতোমধ্যে তেহরানের কিছু এলাকা এবং নির্দিষ্ট কিছু অফিস থেকে সীমিত আকারে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা এখনও বেশিরভাগ জায়গায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেয় নিরাপত্তা বাহিনী। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের আড়ালে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।
নরওয়ে-ভিত্তিক সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। গত এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) দেশটির সব স্কুল-কলেজ পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। সরকার দাবি করছে, বর্তমানে পরিস্থিতি তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইরানিরা গত কয়েক দিন ধরে কেবল দেশের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক বা ‘ইন্ট্রানেট’ ব্যবহার করতে পারছিল। এতে ব্যাংকিং সেবা ও কিছু স্থানীয় অ্যাপ চালু থাকলেও বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে আন্তর্জাতিক ফোন কল এবং শনিবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে এসএমএস সেবা চালু করা হয়েছে।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, সহিংসতায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। তবে আন্তর্জাতিক মহল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো আটককৃতদের ওপর কঠোর শাস্তির আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক