বিশ্ব নেতাদের তোপের মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) এই সফর ঘিরে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ন্যাটোর প্রতি তার সংশয়পূর্ণ অবস্থান নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
এদিন এয়ারফোর্স ওয়ানে যান্ত্রিক ত্রুটির দেখা দেওয়ায় ট্রাম্পের দাভোসে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়। তবে দাভোসে নামার আগেই তিনি ইউরোপীয় নেতাদের কটাক্ষ করেন। এর বিপরীতে দাভোসে সমবেত বিশ্ব নেতারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইউরোপ কোনো ‘বুলিং’ বা জবরদস্তি মেনে নেবে না। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক বৈপ্লবিক ভাষণে সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ব্যবস্থা এখন আর কোনো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না, বরং এটি স্থায়ীভাবে ‘ভেঙে’ পড়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া ও চীনের হাত থেকে রক্ষা করতে খনিজ সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে কতদূর যেতে প্রস্তুত— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা শিগগিরই তা জানতে পারবেন।’ অন্যদিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট ট্রাম্পের এই সাম্রাজ্যবাদী আচরণের সমালোচনা করে ‘চিন্তাশীল কূটনীতির’ আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও রুট জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিপদে পড়লে ইউরোপ অবশ্যই এগিয়ে আসবে।
এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিসের’ সনদ ঘোষণা করবেন ট্রাম্প। গাজা পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে গঠিত হলেও এর লক্ষ্য অনেক বিস্তৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বোর্ডে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার জন্য প্রতিটি দেশকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। তবে কানাডাসহ অনেক দেশ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের আগমনকে কেন্দ্র করে দাভোসের তুষারশুভ্র পাহাড়ে কে বা কারা বড় অক্ষরে খোদাই করে লিখেছে ‘No Kings’ (কোনো রাজা নেই)—যা ট্রাম্পের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই দাভোস সফর ২০২৬ সালের বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির গতিপথ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক