আগাম নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে জাপান, বড় ঝুঁকি নিলেন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি
জাপানে আগাম নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সংসদ ভেঙে এই আগাম নির্বাচনের ডাক দেন। নিজের নেতৃত্বের প্রতি জনসমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে বিশ্লেষকদের মত।
ভোটের আগে জরিপে দেখা যাচ্ছে, তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাপানিজ ইনোভেশন পার্টির জোট নিম্নকক্ষের ৪৬৫ আসনের মধ্যে প্রায় ৩০০টি আসন পেতে পারে। গত বছর পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এটি এলডিপির জন্য বড় প্রত্যাবর্তন হতে পারে। খবর বিবিসির।
তাকাইচি কর ছাড় ও ভর্তুকির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের একটি অংশকে আকৃষ্ট করেছেন। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এসব ব্যয়বহুল প্রতিশ্রুতি জাপানের ইতোমধ্যে ধীরগতির অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
ভোটের এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ আগাম ভোট দিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ কম। তুষারঝড়ের কারণে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে ভোটার উপস্থিতি কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের অনুরাগী হিসেবে পরিচিত এবং নিজেকে জাপানের ‘আইরন লেডি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি শক্ত প্রতিরক্ষা ও জাতীয়তাবাদী নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
নারী ও পরিবার বিষয়ে তার রক্ষণশীল মতাদর্শ থাকা সত্ত্বেও, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের মধ্যে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার সরকারের অনুমোদন হার ৭০ শতাংশের ওপরে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়; এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তার অনুসারী ২৬ লাখের বেশি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা সব সময় ভোটে পরিণত নাও হতে পারে। এলডিপি এখনও দুর্নীতি কেলেঙ্কারির প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ২০২৩ সালে তহবিল সংগ্রহ সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির জেরে চারজন মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং দুর্নীতি তদন্ত শুরু হয়।
এদিকে বিরোধী শিবিরও এবার তুলনামূলকভাবে ঐক্যবদ্ধ। এলডিপির সাবেক জোটসঙ্গী কোমেইতো এখন কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতিতেও তাকাইচি বিতর্কের মুখে। তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় টোকিও-বেইজিং সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন। শুক্রবার ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাকাইচিকে সমর্থনও জানান।
সব মিলিয়ে এই নির্বাচন তাকাইচির জন্য বড় রাজনৈতিক জুয়া। ফলাফল তার নেতৃত্বকে শক্ত ভিত্তি দেবে, নাকি নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দেবে—সেদিকেই এখন নজর জাপানের রাজনৈতিক মহলের।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক