প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক হামলায় নিহত ২
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি নৌযানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) এক বিবৃতিতে এই হামলার খবর নিশ্চিত করে।
সাউথকম জানিয়েছে, নৌযানটি মাদক পাচারের কাজে নিয়োজিত ছিল। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। খবর আলজাজিরার।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই আক্রমণকে ‘লিথাল কাইনেটিক স্ট্রাইক’ বা প্রাণঘাতী সামরিক হামলা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় তথাকথিত দুই ‘নারকো-সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। একজন জীবিত আছেন। হামলার পরপরই মার্কিন কোস্টগার্ডকে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান (সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ) শুরু করার জন্য অবহিত করা হয়েছে। তবে ওই জীবিত ব্যক্তির বর্তমান শারীরিক অবস্থা বা তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সাউথকম এই হামলার ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় একটি লক্ষ্যভেদী রকেট বা মিসাইল লক্ষ্যবস্তু নৌযানটিতে আঘাত করার পর সেটি বিস্ফোরিত হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনীর। এর পর থেকে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের সামরিক তৎপরতা বহুগুণ বেড়েছে। গত সপ্তাহেও অনুরূপ এক হামলায় দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছিল। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা ও মনিটরিং সেলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে এ পর্যন্ত প্রশান্ত ও ক্যারিবীয় মহাসাগরে ৩৯টি নৌযানে অন্তত ৩৭টি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যাতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ১৩০ জনে।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের ওপর মার্কিন এই সরাসরি হামলার বৈধতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার কর্মী এবং আঞ্চলিক নেতারা একে ‘বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, মার্কিন প্রশাসন এখানে নিজেই বিচারক। নিজেই জল্লাদের ভূমিকা পালন করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম হামলার সময় নৌকাডুবিতে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর পুনরায় হামলার অভিযোগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে কঠোর আইনি পর্যবেক্ষণের মুখে রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক