গাজায় সেনা পাঠাতে পাকিস্তানিদের সমর্থন, রয়েছে প্রশ্নও
গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) গঠিত হলে সেখানে পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর পক্ষে দেশটির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নাগরিক মত দিয়েছেন। গ্যালাপ পাকিস্তানের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে জনমনে কিছু প্রশ্ন ও সংশয়ও রয়েছে।
১৫ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে ১৬০০ জনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, ৭৩ শতাংশ পাকিস্তানি গাজায় সেনা পাঠানোর পক্ষে। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ ‘দৃঢ়ভাবে’ এবং ১৮ শতাংশ ‘আংশিকভাবে’ সমর্থন জানিয়েছেন। বিপক্ষে রয়েছেন মাত্র ৬ শতাংশ, আর ১৬ শতাংশ অনিশ্চিত।
গ্যালাপ পাকিস্তানের নির্বাহী পরিচালক বিলাল গিলানি বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে পাকিস্তানের জনগণ গভীরভাবে সম্পৃক্ত হলেও ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে তারা পুরোপুরি নিশ্চিত নন।
বোর্ড অব পিস ও আইএসএফ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আইএসএফ ও ‘বোর্ড অব পিস’ (বিওপি) গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তান এ বোর্ডে যোগ দেয়। জানা গেছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি বোর্ডের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অংশ নিতে পারেন।
বিওপি গাজায় প্রশাসন, পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার তদারকির লক্ষ্যে গঠিত হলেও এর সনদে গাজার সরাসরি উল্লেখ নেই—যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শর্তসাপেক্ষ সমর্থন
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশ মনে করেন, গাজায় সেনা পাঠানোর আগে কয়েকটি শর্ত পূরণ জরুরি। ৮৬ শতাংশ বলেছেন, ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ থাকতে হবে। ৮১ শতাংশ জাতিসংঘের অনুমোদনকে অপরিহার্য বলেছেন। ৬৪ শতাংশ মুসলিম দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো পরাশক্তির অনুমোদনকে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দিয়েছেন উত্তরদাতারা।
বিভক্ত মত
জরিপে দেখা গেছে, পুরুষদের (৭৮ শতাংশ) তুলনায় নারীদের (৬৮ শতাংশ) সমর্থন কিছুটা কম। শহরাঞ্চলে সমর্থন (৮৪ শতাংশ) গ্রামাঞ্চলের (৬৭ শতাংশ) তুলনায় বেশি। উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যেও সমর্থনের হার তুলনামূলক বেশি।
তবে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি শান্তিরক্ষী বাহিনী হামাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে জনসমর্থন কমে যেতে পারে। করাচির সফটওয়্যার প্রকৌশলী মাসরুর হোসেন বলেন, বিওপিতে অংশ নেওয়া কূটনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে, তবে সামরিক সম্পৃক্ততা জটিলতা বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে সিয়ালকোটের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আনাম নাদিম বলেন, জাতিসংঘের স্পষ্ট ম্যান্ডেট ও ফিলিস্তিনিদের সম্মতি ছাড়া গাজায় সামরিক সম্পৃক্ততা দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত হবে না।
সরকারের সতর্ক অবস্থান
পাকিস্তান সরকার বলছে, এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, গাজায় সেনা পাঠানো হলে তা হবে মানবিক ও স্থিতিশীলতা রক্ষার উদ্দেশ্যে—হামাস নিরস্ত্রীকরণের জন্য নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো দেশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পাকিস্তান এগোলে বড় ঝুঁকি তৈরি হবে না। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা—বিশেষ করে ১৯৭০ সালের জর্ডান সংকট—পাকিস্তানের জন্য এখনও সংবেদনশীল বিষয়।
সার্বিকভাবে গ্যালাপ পাকিস্তানের জরিপ বলছে, গাজা ইস্যুতে পাকিস্তানে শক্তিশালী জনসমর্থন রয়েছে। তবে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, আঞ্চলিক ঐকমত্য ও ফিলিস্তিনিদের সম্মতির বিষয়টি জনগণের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক