যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় পরমাণু আলোচনা, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মহড়া
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের পরমাণু আলোচনার দ্বিতীয় দফায় অংশ নিতে জেনেভায় পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আরাগচি লেখেন, ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক চুক্তি অর্জনে বাস্তব প্রস্তাব নিয়ে জেনেভায় এসেছি। তবে হুমকির মুখে আত্মসমর্পণ আলোচনার টেবিলে নেই।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি আগে সতর্ক করেছিলেন, উত্তেজনা বাড়লে তা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
আইএইএ প্রধানের সঙ্গে বৈঠক
জেনেভায় আরাগচি জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)–এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি জানান, পরমাণু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে গভীর কারিগরি আলোচনা হবে।
এর আগে জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের প্রধান পরমাণু স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালায়। তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকির কথা বলে ইরান বলেছে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পরিদর্শনে বিশেষ প্রটোকল প্রয়োজন।
‘গুরুতর ছাড়’ দিতে প্রস্তুত তেহরান?
তেহরানভিত্তিক আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানো এবং পরমাণু স্থাপনাগুলো আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করতে প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও বাস্তবসম্মত হয়েছে। তবে তিনি গ্রসির সমালোচনা করে বলেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার নিন্দা না করা গ্রহণযোগ্য নয়।
আরাগচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদির সঙ্গেও বৈঠক করবেন। ওমানই দুই দেশের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে।
কূটনীতির পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি
আলোচনার সমান্তরালে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরীসহ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তি না হলে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে ‘স্মার্ট কন্ট্রোল অব দ্য স্ট্রেইট অব হরমুজ’ নামে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। উপসাগরের এই কৌশলগত জলপথ বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের সতর্ক বার্তা
হাঙ্গেরি সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আছে, তবে এটি সহজ হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র চায় আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হোক। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, শূন্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা তাদের ‘রেড লাইন’।
অভ্যন্তরীণ চাপ ও কঠোর অবস্থান
ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমন ও হাজারো মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে।
এদিকে ইরানের কট্টরপন্থি আইনপ্রণেতারা সতর্ক করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও পরমাণু স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত না করে আন্তর্জাতিক পরিদর্শন মেনে নেওয়া যাবে না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক