চুক্তির লক্ষ্যে ‘নির্দেশনা নীতি’র প্রশ্নে একমত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র
জেনেভায় অনুষ্ঠিত মঙ্গলবারের (১৭ ফেব্রুয়ারি) বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বৃহত্তর চুক্তির ভিত্তি হিসেবে একগুচ্ছ ‘নির্দেশনা নীতি’র প্রশ্নে একমত হয়েছে। এই দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি সামরিক হুমকির মধ্যেই তেহরানের একজন কূটনীতিক এই তথ্য জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা এড়ানো। অন্যদিকে, তেহরান দাবি করছে তাদের পঙ্গু হয়ে যাওয়া অর্থনীতিকে সচল করতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, এই অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর দেশের রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, দুই পক্ষ চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে এর ‘পরিণাম’ ভালো হবে না।
মঙ্গলবার আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা একগুচ্ছ নির্দেশক নীতির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি, যার ওপর ভিত্তি করে আমরা সামনে এগিয়ে যাব এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ শুরু করব।’ তিনি চলতি দফার আলোচনাকে চলতি মাসের শুরুর দিকে হওয়া আলোচনার চেয়ে ‘বেশি গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
আব্বাস আরাঘচি আরও জানান, দুই পক্ষ চুক্তির খসড়া তৈরি করার পর সেগুলো বিনিময় করা হবে এবং তৃতীয় দফা আলোচনার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, দুই দেশের অবস্থানের ব্যবধান কমিয়ে আনতে ‘সময় লাগবে’।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি বলেছেন, দুই পক্ষ ভালো অগ্রগতি করেছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থার হুমকি দিয়ে চলেছেন। গত ডিসেম্বরে বিক্ষোভকারীদের ওপর তেহরানের কঠোর দমন-পীড়নের জন্য এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে তিনি এই হুমকি দিচ্ছেন।
ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। স্যাটেলাইটের ছবি অনুযায়ী, গত রোববার পর্যন্ত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইরানি উপকূল থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। এতে অন্তত এক ডজন এফ-৩৫ এবং এফ-১৮ যুদ্ধবিমান রয়েছে যা আঘাত হানার মতো দূরত্বে আছে। এছাড়া, এ সপ্তাহের শেষ দিকে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরীটি পাঠানো হয়।
মার্কিন রণতরী পাঠানোর পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক বক্তৃতায় বলেন, ‘আমরা অনবরত শুনছি তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ইরানের দিকে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। যুদ্ধজাহাজ অবশ্যই একটি বিপজ্জনক অস্ত্র, কিন্তু তার চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেটি ডুবিয়ে দিতে সক্ষম অস্ত্র।’ তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধ্বংস করতে চাইলেও সফল হবেন না।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতে থাকা এই আলোচনাকে কেবল পারমাণবিক ইস্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ওপর জোর দিচ্ছে, যদিও ওয়াশিংটন তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক