হামলা চালালে মার্কিন ঘাঁটি হবে ‘প্রধান লক্ষ্যবস্তু’ : ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক হুমকি ও সম্ভাব্য আক্রমণের মুখে কড়া পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ওপর কোনো সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন বাহিনীর সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে। খবর এএফপির।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে লেখা এক চিঠিতে এ হুঁশিয়ারি দেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ‘যুদ্ধবাজ বক্তব্য’ সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরাভানির মতে, এই ধরনের পদক্ষেপের পরিণতি পুরো অঞ্চলের জন্য বিপর্যয়কর হবে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও বিশাল সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছেন। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরানের কাছে মাত্র ১৫ দিন সময় আছে। চুক্তি না হলে আমেরিকা আবারও আক্রমণের পথে হাঁটবে বলে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকি চুক্তিতে না এলে ভারত মহাসাগরের দ্বীপসহ যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। রাষ্ট্রদূত ইরাভানি তাঁর চিঠিতে বলেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও যেকোনো অস্পষ্টতা কাটাতে প্রস্তুত। তবে জেনেভায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে কিছুটা অগ্রগতির খবর মিললেও যুদ্ধের দামামা এখনো কমেনি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক