মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ‘অপ্রয়োজনীয়’, চুক্তি ‘অর্জনযোগ্য’ : ইরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক সামরিক হুমকি সত্ত্বেও তেহরান শান্তি স্থাপন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়তে প্রস্তুত। তিনি বলেন, একটি ন্যায্য ও পারস্পরিক লাভজনক চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো সম্ভব।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ‘এমএস এনওডব্লিউ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি এ মন্তব্য করেন।
আরাঘচি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কোনো সামরিক সমাধান নেই। তিনি বলেন, ‘একটি কূটনৈতিক সমাধান আমাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। আমি গত ২০ বছর ধরে এই পেশায় আছি, আমি জানি একটি চুক্তি অর্জনযোগ্য।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো চুক্তি অবশ্যই উভয়ের জন্য সম্মানজনক হতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করে আরাঘচি একে ‘অপ্রয়োজনীয় এবং অসহায়ক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো সামরিক পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
আরাঘচির এই সাক্ষাৎকারের কয়েক ঘণ্টা পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, আলোচনার টেবিলে নিজের অবস্থান শক্ত করতে তিনি ইরানের ওপর ‘সীমিত হামলার’ সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের চারপাশে ব্যাপক সামরিক শক্তি জড়ো করছে। শুক্রবার জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলো জানিয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ ভূমধ্যসাগর হয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প ইরানকে চুক্তির জন্য প্রথমে ১০ দিন ও পরে বাড়িয়ে ১৫ দিনের সময়সীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে বললেও আরাঘচি দাবি করেছেন, ‘মার্কিন পক্ষ শূন্য সমৃদ্ধকরণের দাবি তোলেনি। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশ্য অবস্থানের বিপরীত বলে মনে হচ্ছে।
ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অধিকারের ওপর জোর দিয়ে জানিয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না এবং তাদের কার্যক্রমের ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মানতে প্রস্তুত। উল্লেখ্য, গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমানে দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রকৃত অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে অজানা।
আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে আরাঘচি জানান, উভয় পক্ষ চুক্তির মূলনীতি ও নির্দেশিকার বিষয়ে একমত হয়েছে। এখন ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের কাছে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পরবর্তী বৈঠকে সেই খসড়া প্রস্তাবের ভাষা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক