ট্রাম্পের সাহায্যের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান
ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে হতাশায় পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে মিত্র দেশগুলোর কাছে সামরিক সহায়তা চাইলেও, ফ্রান্স সেই অনুরোধ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক কূটনৈতিক সুরের জবাবে ফ্রান্স সরাসরি বলেছে—‘ভয় দেখানো বন্ধ করুন’। খবর দ্য ডিইলি বিস্ট।
শনিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ চীন, ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়াকে একত্রে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে হরমুজ প্রণালীকে সুরক্ষিত করার অনুরোধ জানান। এর প্রতিক্রিয়ায় ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়, তাদের বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ পূর্ব ভূমধ্যসাগরেই অবস্থান করবে ও ফ্রান্সের অবস্থান কেবল ‘প্রতিরক্ষামূলক’।
ফ্রান্স স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক সামরিক জোটে অংশ নেবে না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আক্রমণের মুখে ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এর ফলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ইতিহাসে সর্ববৃহৎ সরবরাহ সংকট। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় হু হু করে বাড়ছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে ৯০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। যদিও এই দ্বীপটি দিয়ে ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়, তবে বর্তমানে সেখানকার জ্বালানি অবকাঠামো অক্ষত রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাম্প এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তেহরান চুক্তি করতে চাইলেও তিনি তা গ্রহণ করছেন না, কারণ শর্তগুলো তার পছন্দ নয়। এমনকি তিনি ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খারগে মজা করার জন্য আরও কয়েকবার আঘাত করতে পারে’।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার পুত্র মোজতবা খামেনি ক্ষমতা গ্রহণ করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন। ইরান বর্তমানে তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। তারা খারগ দ্বীপের ক্ষতিকে গুরুত্ব না দিয়ে এখন দুবাই, আবুধাবি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বন্দরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, প্রণালিটি মূলত উন্মুক্ত থাকলেও ইরানি বাহিনীর ক্রমাগত বোমাবর্ষণের উচ্চ ঝুঁকির কারণে কোনো জাহাজ সেখানে যাতায়াত করতে পারছে না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক