ইরানে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় কূটনীতিকরা : অ্যাক্সিওস
ইরান যুদ্ধকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর মধ্যেই ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশ এ বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে বলে একাধিক মার্কিন, ইসরায়েলি ও আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে। খবর অ্যাক্সিওসের।
সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আংশিক কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম। তবে এই উদ্যোগই এখন বড় ধরনের সংঘাত ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকানোর শেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দেওয়া ১০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে আজ সোমবার (৬ এপ্রিল)। তবে তিনি সেটি আরও ২০ ঘণ্টা বাড়িয়ে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত পর্যন্ত নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের সঙ্গে ‘গভীর আলোচনায়’ রয়েছে এবং সময়সীমার আগেই সমঝোতা সম্ভব হতে পারে। তবে চুক্তি না হলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পর্দার আড়ালে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যেও বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে।
অ্যাক্সিওস জানায়, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুই ধাপে চুক্তি বাস্তবায়নের কথা ভাবা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে, যার মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে। প্রয়োজন হলে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোও হতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে শেষ করার বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি হবে।
তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যু—এই দুই বিষয় চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে সমাধান করা হতে পারে বলে মনে করছেন মধ্যস্থতাকারীরা। হরমুজ প্রণালি বর্তমানে ইরানের অন্যতম বড় কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যস্থতাকারীরা চাইছেন, প্রথম ধাপেই ইরান এসব ইস্যুতে আংশিক পদক্ষেপ নিক এবং যুক্তরাষ্ট্রও এমন নিশ্চয়তা দিক যাতে যুদ্ধবিরতি সাময়িক না হয়ে স্থায়ী সমাধানের পথে এগোয়।
এদিকে, ইরান প্রকাশ্যে এখনও কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে এবং বড় ধরনের ছাড় দিতে অনিচ্ছুক। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও পানিসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোও পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক