হিজবুল্লাহর নতুন কৌশল : ‘ফাইবার অপটিক ড্রোনে’ দিশেহারা ইসরায়েল
লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন ও বিধ্বংসী মারণাস্ত্র ব্যবহার করছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। আধুনিক ইলেকট্রনিক রাডার বা জ্যামিং প্রযুক্তিকে ফাঁকি দিতে সক্ষম এই বিশেষ ড্রোনগুলো এখন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফাইবার অপটিক ক্যাবল বা অতি সূক্ষ্ম তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত এই ড্রোনগুলো অনেকটা ‘অদৃশ্য’ শিকারির মতো ইসরায়েলি সেনাদের ওপর আঘাত হানছে।
সাধারণত ড্রোনগুলো জিপিএস বা রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্যাম বা অকেজো করে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু হিজবুল্লাহর এই নতুন ড্রোনগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করার সুতোর মতো পাতলা ফাইবার অপটিক ক্যাবল। ড্রোনের পেছন থেকে এই তারটি সরাসরি অপারেটরের কন্ট্রোল প্যানেলের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক জ্যামিং বা সিগন্যাল হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে একে থামানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তির কারণে ড্রোনগুলো রাডারে ধরা পড়ে না এবং লক্ষ্যবস্তুর খুব কাছ পর্যন্ত নিঃশব্দে পৌঁছে যেতে পারে।
গত এক সপ্তাহে এই ড্রোনের আঘাতে দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরায়েলে বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক হামলায় অন্তত এক ডজন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তাদের নিজস্ব চ্যানেল আল-মানারে এসব ড্রোন হামলার রুদ্ধশ্বাস ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সেনাদের একটি জটলার ওপর ড্রোনটি সরাসরি আছড়ে পড়ছে। এমনকি আহতদের উদ্ধার করতে আসা হেলিকপ্টারের খুব কাছ দিয়েও একটি ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে দেখা গেছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ড্রোনগুলো তৈরি করা অত্যন্ত সহজ এবং সাশ্রয়ী। প্রতিটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হচ্ছে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ মার্কিন ডলার। থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ও বাজারে সহজলভ্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে হিজবুল্লাহ এগুলো স্থানীয়ভাবেই তৈরি করছে। ইসরায়েলের সাবেক বিমান প্রতিরক্ষা প্রধান রান কোচাভ স্বীকার করেছেন, ইসরায়েল এতদিন বড় মিসাইল বা রকেট ঠেকানোর দিকে নজর দিলেও এই ছোট ও দ্রুতগতির ড্রোনের বিপদকে অবহেলা করেছে। এই ড্রোনগুলো এত নিচ দিয়ে এবং এত দ্রুত উড়ে আসে যে এদের শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।
হিজবুল্লাহর এই নতুন কৌশলের মুখে ইসরায়েলি সেনারা এখন তাদের সাঁজোয়া যানে বিশেষ জাল বা খাঁচা ব্যবহার করছে, যাতে ড্রোন সরাসরি আঘাত করতে না পারে। তবে এই অদৃশ্য তারের ড্রোন মোকাবিলায় এখনও কোনো কার্যকর প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে পায়নি তারা।
সীমান্তের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ড্রোন আছড়ে পড়ার পর সেখানে মাকড়সার জালের মতো অসংখ্য সাদা সুতোর মতো তার পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।
সূত্র : এনবিসি

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক