‘দক্ষ নন’ বলে ছাঁটাই, প্রমাণ করতে না পেরে কর্মীকে ১৯ লাখ টাকা দিল কোম্পানি
কাজে ভালো পারফরম্যান্স বা দক্ষতা দেখাতে পারেননি– এমন অজুহাতে এক নারী কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছিল একটি কোম্পানি। কিন্তু আদালতে সেই অভিযোগের কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি তারা। উল্টো হুট করে ও অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার অপরাধে ওই নারীকে সর্বোচ্চ প্রায় ১৯ লাখ টাকা (৩০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সিঙ্গাপুরের অ্যামপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল (ইসিটি) এই রায় দেয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ওই নারী ২০২৫ সালের এপ্রিলে একটি কোম্পানিতে ‘অডিট ম্যানেজার’ হিসেবে যোগ দেন। প্রথম ছয় মাস তিনি প্রবেশন বা শিক্ষানবিশকাল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু এই সময়সীমা শেষ হতেই কোম্পানি তাকে জানায় যে তার কাজের মান ভালো নয়, তাই তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
চাকরি হারিয়ে ওই নারী আদালতের দ্বারস্থ হন। তিনি জানান, চাকরি চলাকালীন তার কাজ নিয়ে মৌখিকভাবে বা লিখিতভাবে কখনোই কোনো সতর্কতা বা নেতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়নি। এমনকি কোন নিয়মে বা স্ট্যান্ডার্ডে তার কাজের মূল্যায়ন করা হয়েছে, তাও তাকে আগে থেকে জানানো হয়নি। তবে ওই নারী অভিযোগ করেছিলেন, তিনি কোরিয়ান ভাষায় কথা বলতে পারেন না বলে তার সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। যদিও আদালত কোরিয়ান ভাষা না জানা কিংবা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ অনিয়ম নিয়ে কথা বলার কারণে তাকে ছাঁটাই করা হয়েছে—এমন অভিযোগ নাকচ করে দেয়। কেবল ভুল ও অন্যায়ভাবে ছাঁটাইয়ের বিষয়টি আমলে নেয়।
শুনানিতে কোম্পানি দাবি করে, চাকরিতে স্থায়ী হতে হলে একজন কর্মীকে অন্তত ৮০ শতাংশ নম্বর এবং নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ভালো রেটিং পেতে হয়। ওই নারী ৭১ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন। কিন্তু আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট জোয়েল তান পরীক্ষা করে দেখেন, কোম্পানি তাদের নিজেদের তৈরি করা মূল্যায়ন পদ্ধতি বা নিয়মগুলো ওই নারীকে চাকরি শুরুর সময়ে বুঝিয়েই বলেনি। কোনো কর্মীকে না জানিয়ে বা না বুঝিয়ে তার ওপর কোনো অদৃশ্য নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া এবং সেই অনুযায়ী বরখাস্ত করা সম্পূর্ণ অন্যায়।
আদালত আরও জানায়, কোম্পানির পক্ষ থেকে কর্মীর কাজের মূল মানের কোনো খামতি ধরা হয়নি, বরং কিছু ছোটখাটো প্রশাসনিক ও নিয়মকানুনের অজুহাত দেওয়া হয়েছিল, যার কোনো শক্ত প্রমাণও ছিল না।
ক্ষতিপূরণের হিসেবে ওই নারীর মাসিক বেতন ছিল ১১ হাজার ৫০০ সিঙ্গাপুরি ডলার। নিয়ম অনুযায়ী তিন মাসের বেতন বাবদ তার ৩৪ হাজার ৫০০ ডলার পাওয়ার কথা ছিল। তবে আদালতের আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের সর্বোচ্চ সীমা ৩০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯ লাখ টাকা) হওয়ায় তাকে এই সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থই দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিচারক মন্তব্য করেন, কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের স্পষ্ট করে কাজের নিয়ম না বুঝিয়ে পারফরম্যান্স খারাপের অজুহাতে চাকরি থেকে বের করে দিতে পারে না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক