১৯১২ কোটি টাকার লটারি জিতে অর্ধেকই দান করলেন নারী
ইউরোমিলিয়ন্স লটারির বিশাল জ্যাকপট জিতে রাতারাতি বিলিয়নিয়ার হয়ে গিয়েছিলেন ফ্রান্সেস কনলি। তবে পুরো অর্থ বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় না করে, তিনি ও তার স্বামী সেই সম্পদের প্রায় অর্ধেকই গোপনে স্থানীয় মানুষের কল্যাণে দান করে দিয়েছেন। খবর এনডিটিভির।
সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সাবেক সমাজকর্মী ও শিক্ষিকা ফ্রান্সেস কনলি তার স্বামী প্যাডির সঙ্গে মিলে ১১ কোটি ৫০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ডের বিশাল লটারি জেতেন। তৎকালীন ও বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৯১২ কোটি টাকার সমান।
বিপুল পরিমাণ অর্থ জয়ের পর পরিবার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করে বাকি অর্থ সমাজসেবায় বিলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এই নারী। লটারিতে পাওয়া অর্থের মধ্যে এই দম্পতি প্রায় ৮৮৫ কোটি টাকা দান করেছেন। মানবসেবামূলক কাজগুলো সুসংগঠিতভাবে পরিচালনায় তারা একটি দাতব্য ট্রাস্টও গঠন করেন। খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পী ও সমাজসেবক ডলি পার্টনের জনহিতকর কাজ থেকেই এই অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানান ফ্রান্সেস।
বিপুল প্রাচুর্যের মাঝেও ফ্রান্সেস ও তার স্বামী উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে সাদামাটা জীবনযাপন করছেন। একটি প্রশস্ত বাড়ি ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ উপভোগ করলেও তারা অহেতুক অর্থ অপচয় পছন্দ করেন না। নতুন দামি সামগ্রীর বদলে ব্যবহৃত ঘড়ি ও গাড়ির মতো সেকেন্ড-হ্যান্ড বিলাসবহুল জিনিসপত্র ব্যবহার করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তারা।
নিজের এই উদারতার ব্যাখ্যায় প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে ফ্রান্সেস বলেন, আপনি জীবনে কী চান, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আপনার লক্ষ্য যদি হয় বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হওয়া বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচালিত করা, তবে আপনার সব টাকা নিজের কাছেই জমা রাখতে হবে। কিন্তু আমার ধারণা, মানুষের যখন নিজের চাহিদার চেয়ে বেশি থাকে, তখন তা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াটাই মানবপ্রবৃত্তি। তিনি আরও বলেন, লটারি জয়ের সময় আমার বয়স ছিল ৫০-এর কোঠায়। সন্তানদের সুন্দর ও আরামদায়ক ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার পর এই বিপুল অর্থ নিজের কাছে জমিয়ে রাখার কোনো অর্থ খুঁজে পাইনি।
উত্তর আয়ারল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ফ্রান্সেস কনলি ১৯৯০ সালে কাজের সূত্রে ইংল্যান্ডের হার্টলপুলে চলে যান এবং ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে বসবাস করছেন। তিনি জানান, নিজের অর্জিত বা পাওয়া অর্থ দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত স্থানীয় সম্প্রদায়কে সহায়তা করতে পারাটা পরম সৌভাগ্যের বিষয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক