ইরানের প্রস্তাব 'প্রত্যাখ্যান' করেছি, তারা তীব্র সংকটে পড়েছে : ট্রাম্প
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, কোনো অর্থ না আসায় বর্তমানে তীব্র সংকটে পড়েছে তেহরান। স্থানীয় সময় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) টেনেসির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন। খবর আল জাজিরার।
ট্রাম্প বলেন, তারা নিজেদের কঠিন বিপদে ফেলেছে। আমরা সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অবরোধ গড়ে তুলেছি- এটি যেন স্টিলের তৈরি এক দেয়াল। তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে চেয়েছিল বলে এখন তাদের হাতে কোনো অর্থ নেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, প্রণালিটি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয় এবং গত রাতেও এতে ২৯টি জাহাজ অতিক্রম করেছে।
এদিকে সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা ও এনইএসএ সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের অধ্যাপক ডেভিড ডেস রোচেস আল জাজিরাকে জানান, আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন (মিডটার্ম) ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করছে, তবে সেই বাধারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ডেস রোচেসের মতে, মার্কিন কংগ্রেসের মাত্র ১৮টি আসন নিরপেক্ষ বা লড়াইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে আগাম ভোট ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, যেখানে ডেমোক্রেট সমর্থকদের হার বেশি। তাই সামরিক পদক্ষেপের কারণে রাজনৈতিক খেসারত দিতে হলেও তা ট্রাম্পের সমর্থন ব্যাংকে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। অনেক রিপাবলিকান সমর্থক চান ট্রাম্প ‘কাজ শেষ করুন’, অর্থাৎ নির্বাচনের আগেই তিনি কঠোর পদক্ষেপ বেছে নিতে পারেন।
ট্রাম্প নিজে এই নির্বাচনে প্রার্থী নন, যা রিপাবলিকানদের ভোটারদের কেন্দ্রে টানার ক্ষেত্রে এক ধরণের চ্যালেঞ্জ। ডেস রোচেস জানান, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকলে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই সামরিক পদক্ষেপ দেখার সম্ভাবনা বেশি। আর নির্বাচনের আগে না হলেও পরে এটি অবধারিত, কারণ ট্রাম্প এই বিষয়ে ইতোমধ্যেই অত্যন্ত সোচ্চার।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক