ইসরায়েলের নির্বাচন
৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এগিয়ে নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের বহুল আলোচিত সাধারণ নির্বাচনের প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট কিংবা সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোট— কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত ভোটকেন্দ্রগুলোর গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলাফলে দেখা যায়, ১২০ আসনবিশিষ্ট নেসেটে (পার্লামেন্ট) মেজরিটি বা সরকার গঠনের জন্য ৬১টি আসনের প্রয়োজন হলেও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট লাভ করেছে ৫৩টি আসন। যা বিদায়ী পার্লামেন্টে তাদের পাওয়া ৬৮টি আসনের তুলনায় একটি বড় ধরনের পতন। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট বা ‘চেঞ্জ ব্লক’ পেয়েছে ৪৮টি আসন।
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রান্তিক রাজনৈতিক শক্তি আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো। ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির ওপর ভর করে তারা যৌথভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন (জয়েন্ট লিস্ট ১২ এবং রাম ৭টি) নিশ্চিত করেছে, যা তাদের আগামী দিনে নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
এমন অবস্থায় দুই মূল ব্লকের কারোরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় ইসরায়েলে তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নেতানিয়াহু ইতোমধ্যেই আরব দলগুলোর সহায়তা নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ‘জাতীয় ডানপন্থি সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। অপরদিকে আইজেনকোট ‘জায়নবাদী সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বামপন্থী দল ডেমোক্র্যাটসসহ জোটের শরিকদের পক্ষ থেকে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের দাবি উঠছে।
যদি কোনো পক্ষই আগামী দিনে প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের ন্যূনতম জোট তৈরি করতে না পারে, তবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের আহ্বানে জাতীয় সরকার গঠন বা শেষ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে নেতানিয়াহুকে রেখেই ইসরায়েলকে ফের নতুন আরেকটি নির্বাচনের দিকে যেতে হতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক