নাসায় যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামের কিশোরী
নাসা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোনটিকস অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। যেকোনো বিজ্ঞানপ্রেমী মানুষের জন্য এই সংস্থায় কাজ করার সুযোগ পাওয়া আর আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া সমান আনন্দের।
এখন সেই আনন্দে ভাসছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক কিশোরী। কলকাতা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামে বাস করা দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শতপর্ণা মুখার্জি সুযোগ পেয়েছে নাসায় শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ করার। নাসার মর্যাদাপূর্ণ গডার্ড ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের আওতায় সারা বিশ্বের যে পাঁচজন সংস্থাটিতে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে শতপর্ণা তাদেরই একজন।
প্রতি বছর বিশ্বের পাঁচজন শিক্ষার্থীকে এই প্রোগ্রামের জন্য বেছে নেওয়া হয়। যারা স্কুল পর্যায়ের লেখাপড়া সদ্য শেষ করেছে তারাই নির্বাচিত হয় গডার্ড ইন্টার্নশিপের জন্য।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, কামদুনির মধ্যমগ্রাম এলাকার সেন্ট জুডিস স্কুল থেকে এ বছর স্কুলজীবনের শেষ পরীক্ষায় অংশ নেবে শতপর্ণা। নাসার ইন্টার্নশিপের আওতায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে মহাকাশ প্রকৌশলী হিসেবে নিজেকে তৈরি করবে সে। সেখান থেকেই নাসার সদস্য হিসেবে পিএইচডি ডিগ্রিও অর্জন করবে শতপর্ণা।
টাইমস অব ইন্ডিয়াকে শতপর্ণা বলে, ‘গত বছরের মে মাস থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সে সময় আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গ্রুপের সদস্য হয়েছিলাম। যেখানে কয়েকজন বিজ্ঞানীও ছিলেন। একদিন সেখানে ব্ল্যাক হোল তত্ত্ব সম্পর্কে আমার কিছু ধারণা তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নিই। তখন ওই বিজ্ঞানীদের একজন আমাকে নাসার ওয়েবসাইটের ঠিকানা দিয়ে বলেন, আমি যেন সেখানে আমার এই ভাবনাগুলো লিখে জানাই।’
ব্ল্যাক হোল তত্ত্ব এবং কীভাবে এর মাধ্যমে টাইম মেশিন তৈরি করা যায় সে বিষয়ে লেখে শতপর্ণা। লন্ডনের নাসা সেন্টারে একজন গবেষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে ভীষণ খুশি বলে জানায় শতপর্ণা।
গডার্ড ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের আওতায় শতপর্ণা নাসার একজন কর্মী ও গবেষক হিসেবে ‘আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে’ কাজ করবে। সব ধরনের খরচ বহন করা ছাড়াও শতপর্ণাকে কিছু সম্মানীও দেবে নাসা।
মেয়ের সাফল্যে ভীষণ খুশি শতপর্ণার বাবা ও স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ মুখার্জি। তিনি বলেন, তাঁর মেয়ে শুধু পরিবারের নয় বরং পুরো ভারতের গর্ব। তবে সেই সঙ্গে এই মুহূর্তে কিছুটা চিন্তিতও তিনি। কারণ শতপর্ণার যুক্তরাজ্যের সব খরচ নাসা ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বহন করলেও যাওয়ার খরচটুকু তাঁকেই জোগাড় করতে হবে। সেজন্য কোথাও থেকে ধার নেওয়ার চিন্তা করছেন তিনি। কারণ প্রদীপ মুখার্জি চান না, কয়েকটা টাকার কারণে তাঁর মেয়ে এত বড় সুযোগ হারাক।

অনলাইন ডেস্ক