শিশু সিরিয়াল কিলারের মুক্তির আগেই ভয়ে কাঁপছে গ্রাম
মাত্র নয় বছর বয়সেই তিন তিনটে হত্যা মামলার আসামি সে। সব থেকে কনিষ্ঠতম সিরিয়াল কিলার হিসেবে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামেও উঠে এসেছিল তার নাম। শেষমেশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায়। তবে নাবালক কিলার হিসেবে কড়া শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে সরকারি হোমে জায়গা হয় তার। তারপর পার হয়ে গেছে অনেক বছর। চলতি বছরে ১৮ বছরের কোটায় পা রেখে সরকারি হোম থেকে বেরিয়ে আসছে সে। কিন্তু তারপরও কাটছে না সাধারণ মানুষের সন্দেহ। এত দিনে তার মনের পরিবর্তন হয়েছে তো? নাকি ছাড়া পেয়ে ফের বড় কোনো অপরাধের পরিকল্পনা করবে সে? এই নিয়ে এখন আতঙ্কের প্রহর গুনছে ভারতের বিহার রাজ্যের বেগুসরাইয়ের ভগবানপুর থানার মুশহরি গ্রাম।
এই মুশহরি গ্রামেই ১৯৯৮ সালে জন্ম হয় অমরদীপ সাদা নামের এক শিশুর। দরিদ্র এক দিনমজুর পরিবারে জন্ম হয় তার। ২০০৭ সালে মাত্র নয় বছর বয়সের মধ্যেই তিন তিনটা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ফেলে সে। আর এই শিশু সিরিয়াল কিলারের শিকার হয় ফুটফুটে বাচ্চারা। ফাঁকা জায়গায় নিয়ে নৃশংসভাবে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে প্রতিটি শিশুকেই খুন করে সে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মাত্র সাত বছর বয়সে অমরদীপ প্রথম খুন করে তার ছয় মাস বয়সী মামাতো বোনকে। এই ঘটনার এক বছর পরই সে তার নিজের আট মাসের বোনকে নৃশংসভাবে খুন করে। এদের দুজনকেই শিশু অমরদীপ ফাঁকা মাঠে নিয়ে গিয়ে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করে। তবে শিশু অমরদীপের ওপর যাতে পুলিশের হাত না পড়ে সে কারণে দুটি ঘটনার কথাই তার পরিবারের লোকেরা চেপে যায়। কিন্তু খুনের নেশা পিছু ছাড়ে না অমরদীপের। এরপর তার নজর পড়ে প্রতিবেশী চুনচুন দেবীর ছয় মাস বয়সী মেয়ের ওপর। জানা যায়, গ্রামের একটি প্রাথমিক স্কুলের একটি কক্ষে মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে ওই স্কুলেই কাজ করতেন চুনচুন দেবী। হঠাৎ একদিন কাজ সেরে এসে দেখেন কক্ষে তাঁর মেয়ে নেই। সেখানে ঘুরঘুর করছে অমরদীপ। জেরা করতেই সে স্বীকার করে, একইভাবে মাথা থেতলে ওই কন্যাশিশুকেও হত্যা করেছে। এরপরই পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় অমরদীপকে। এই ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মনোবিজ্ঞানীরা অভিমত দেন, অমরদীপ জানেই না যে সে অপরাধ করছে। মাত্র সাত বছর বয়সেই প্রথম হত্যার ঘটনা ঘটিয়ে সে এক ধরনের আনন্দ পেতে শুরু করে।
তবে নাবালক হওয়ার কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ না দিয়ে সরকারি হোমে পাঠানো হয়। সেখানে অমরদীপের নাম বদলে রাখা হয় সমরজিত সাদা। সেই থেকে সরকারি হোমে থাকলেও চলতি বছর ১৮ বছর পূর্ণ হচ্ছে তার। এবার হোমের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরবে সে। কিন্তু তার মনোবিকার পাল্টেছে কি না সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয় তার গ্রামের মানুষ। তাইতো অমরদীপ ওরফে সমরজিত সাদা গ্রামে ফিরে আসার আগেই ভয়ে কাঁপছে মুশহরি গ্রামের মানুষ। সত্যিই মানসিক পরিবর্তন হয়েছে তো এই সিরিয়াল কিলারের? নাকি...। বাকিটা অন্তত এখনই ভাবতে চাইছে না কেউ-ই।

কলকাতা সংবাদদাতা