ট্রাম্পকে হস্তক্ষেপের অজুহাত দিতে বিক্ষোভ রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে : ইরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, দেশব্যাপী বিক্ষোভ সহিংস ও রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য একটি অজুহাত পান।
আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের আব্বাস আরাঘচি বলেন, বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা বেড়েছে, তবে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রাম্পের তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করেছে, যাতে বিদেশি হস্তক্ষেপ করা যায়। আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে সংলাপের জন্যও।
আব্বাস আরাঘচি আরও বলেন, ইরানের কাছে বিক্ষোভকারীদের কাছে অস্ত্র বিতরণের ফুটেজ রয়েছে। সরকার শিগগিরই আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি প্রকাশ করবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিক্ষোভগুলোতে ভিনদেশি ইন্ধন রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করবে।
ইরানে তীব্র বিক্ষোভ গড়িয়েছে তৃতীয় সপ্তাহে। এরমধ্যে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা এবং ট্রাম্পের বারবার সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের সরকার বিক্ষোভের সময় নিহতদের ‘শহীদ’ আখ্যা দিয়ে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন।
গতকাল রোববার আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০৯ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। ইরানের সরকার নিহত বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। তবে দেশের বাইরে অবস্থানরত বিরোধী গোষ্ঠী জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং এতে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী রয়েছেন। আল জাজিরা স্বাধীনভাবে উভয় সংখ্যাই যাচাই করতে পারেনি।
ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমশ বৃদ্ধির প্রতিবাদে এ বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে। পরে এটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সহিংস রূপ নেয়। ১৯৭৯ সালে ইরানে সংঘটিত ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে এটি সরকারের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ সংস্থা ফার্স জানায়, রোববার রাতে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় সীমিত আকারে বিক্ষোভ হয়েছে। তেহরানের নাভাব ও সাদাত আবাদ পাড়া, চাহারমহল এবং বখতিয়ারি প্রদেশের জুনকান ও হাফশেজান এবং মাশহাদের তাইবাদে সীমিত আকারে ‘দাঙ্গা’ হয়। সংবাদ সংস্থাটি জানায়, রোববার রাতে দেশের অন্যান্য শহর ও অঞ্চলে বিক্ষোভ দেখা যায়নি, শান্ত ছিল।
এ ছাড়া আজ সোমবার সকালে ইরানি গণমাধ্যম তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত সরকারপন্থি সমাবেশের ফুটেজ প্রচার করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক