মিনিয়াপলিসে হত্যাকাণ্ড, ডেমোক্র্যাটদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন ট্রাম্প
মিনিয়াপলিসে ব্যাপক আকারের অভিবাসন বিরোধী অভিযানের প্রেক্ষাপটে চাপের মুখে থাকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার (২৫ জানুয়ারি) ফেডারেল এজেন্টদের হাতে দুই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর জন্য ডেমোক্র্যাটদের সৃষ্টি করা ‘বিশৃঙ্খলা’কে দায়ী করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই শহরের একটি বরফে ঢাকা রাস্তায় ধস্তাধস্তির সময় গত শনিবার ভোরে ৩৭ বছর বয়সী আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেটিকে গুলি করে হত্যা করে ফেডারেল এজেন্টরা। এর তিন সপ্তাহেরও কম সময় আগে একজন ইমিগ্রেশন অফিসারের গুলিতে রেনি গুড (৩৭) নামে আরেক নারী তার গাড়িতে থাকা অবস্থায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, প্রেটি ফেডারেল এজেন্টদের ক্ষতি করতে চেয়েছিলেন—যেমনটা রেনি গুডের মৃত্যুর পরও দাবি করা হয়েছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রেটির কাছে একটি পিস্তল পাওয়া গেছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রেটি মোটেও অস্ত্র বের করেননি। তার মুখে রাসায়নিক স্প্রে করার এবং মাটিতে ফেলে দেওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এজেন্টরা তাকে লক্ষ্য করে প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
ট্রাম্প উসকানিমূলকভাবে এই মৃত্যুর জন্য মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট নির্বাচিত কর্মকর্তাদের দায়ী করেছেন, যার মধ্যে গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে রয়েছেন। ট্রাম্প তার 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন- ‘ডেমোক্র্যাট শাসিত শহর এবং রাজ্যগুলো আইসিই এজেন্টদের সাথে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করছে।’
ট্রাম্প আরও লিখেন, ‘দুঃখজনকভাবে, ডেমোক্র্যাটদের এই বিশৃঙ্খলার ফলে দুইজন আমেরিকান নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।’
এদিকে, মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রেটিকে একজন ‘আততায়ী’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছিলেন, তিনি এজেন্টদের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার প্রেটির বাবা-মা একটি বিবৃতি দিয়ে তাদের ছেলেকে নিয়ে প্রশাসনের ‘অসুস্থ মিথ্যাচারের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
ফক্স নিউজের ‘দ্য সানডে ব্রিফিং’ অনুষ্ঠানে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তিনি প্রেটির বাবা-মায়ের উদ্দেশে কিছু বলবেন কি না। উত্তরে নোয়েম বলেন, ‘শুধু এইটুকুই বলব যে, আমি তাদের জন্য ব্যথিত।’
মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এনবিসি’র ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ চিত্র বুঝতে তদন্ত প্রয়োজন।
যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, গুলি করার আগেই আইসিই এজেন্টরা প্রেটির কাছ থেকে পিস্তলটি সরিয়ে নিয়েছিল কি না, তখন ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ‘আমি জানি না। আর অন্য কেউও তা জানে না। সেই কারণেই আমরা তদন্ত করছি।’

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক