আদালতের নির্দেশনা পেলে হাসপাতালে পাঠানো হবে ইমরান খানকে
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। জিও নিউজের।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজের জনপ্রিয় টকশো ‘ক্যাপিটাল টকে’ অংশ নিয়ে সানাউল্লাহ জানান, আদালত নির্দেশ দিলে ইমরান খানকে জেল থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি ইমরান খান ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন’ (সিআরভিও) নামক চোখের একটি জটিল সমস্যায় ভুগছেন।
তাঁর আইনজীবীদের দাবি অনুযায়ী, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশই তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।
ইমরান খানের সর্বশেষ চিকিৎসার বিষয়ে জানা গেছে যে, গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে ইসলামাবাদের পিমস হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর ডান চোখে দ্বিতীয় ইনজেকশনটি সফলভাবে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আগামী ২৩ মার্চ তাঁকে চিকিৎসার তৃতীয় ও শেষ ইনজেকশনটি দেওয়া হবে। চিকিৎসার পাশাপাশি ওই রাতে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তাঁর ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি সম্পন্ন করেন। যার ফলাফল বর্তমানে স্বাভাবিক বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
অনুষ্ঠানে রানা সানাউল্লাহ বলেন, একটি ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ইতোমধ্যে দুইবার ইমরান খানকে পরীক্ষা করেছে। পিটিআই যদি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসায় সন্তুষ্ট না হয়, তবে তাদের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা উচিত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পিটিআই নেতৃত্ব ইমরান খানের অসুস্থতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহারের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, পিটিআইয়ের সংসদীয় নেতা শহিদ খাত্তাক একই অনুষ্ঠানে দাবি করেন, ইমরান খানকে অবিলম্বে হাসপাতালে স্থানান্তর করা উচিত। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের উপস্থিতিতেই সব পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তিনি চিকিৎসার গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর পরিবার ও দল প্রথম থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক