তুরস্কের আকাশে ইরানের দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করল ন্যাটো
তুরস্কের আকাশসীমায় ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া দ্বিতীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তুরস্কের সরকারি কর্তৃপক্ষ আজ সোমবার (৯ মার্চ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদিকে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সকল নাগরিককে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার লক্ষ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।
এখন পর্যন্ত তুরস্ক সরাসরি আক্রমণের শিকার না হলেও দেশটির বেশ কয়েকটি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দক্ষিণের শহর আদানার ঠিক বাইরে অবস্থিত ইনসিরলিক বিমান ঘাঁটি।
সোমবার তুরস্কে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা আদানার কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে এবং জরুরি নয় এমন কর্মীদের এলাকা ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
মার্কিন দূতাবাস সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ৯ মার্চ তারিখে আদানা কনস্যুলেট জেনারেল থেকে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বার্তায় আরও বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে অবস্থানরত মার্কিনিদের এখনই এলাকা ছাড়তে জোরালোভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
এই ঘোষণার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে জানায়, ইরান থেকে ছোড়া আরেকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তুরস্কের আকাশসীমায় ধ্বংস করা হয়েছে। গত পাঁচ দিনের মধ্যে এটি এ ধরনের দ্বিতীয় ঘটনা।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান থেকে ছোড়া এবং তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ব্যালিস্টিক যুদ্ধাস্ত্র পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু ধ্বংসাবশেষ আদানা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পূর্বে গাজিয়ানটেপ এলাকার খোলা জায়গায় পড়েছে, তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।
ইনসিরলিক বিমান ঘাঁটি ন্যাটোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যা কয়েক দশক ধরে মার্কিন সেনারা ব্যবহার করে আসছে। এটি আদানা শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
তুরস্কের প্রেসিডেন্সিয়াল কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান এ প্রসঙ্গে এক্সে এক পোস্টে লিখেন, তুরস্ক তার আকাশসীমা এবং সীমান্ত সুরক্ষা দিতে কোনো দ্বিধা করবে না। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আবারও সব পক্ষকে, বিশেষ করে ইরানকে সতর্ক করছি—এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকুন যা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে এবং বেসামরিক মানুষকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।’
এর আগে গত ৪ মার্চ ইরান থেকে তুরস্কের দিকে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটো সেনারা ভূপাতিত করেছিল। ইরান এই অঞ্চলে হামলা বাড়িয়ে দেওয়ায় ন্যাটো তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করেছে।
স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্গারিটা রবেলস জানিয়েছেন, ইনসিরলিক ঘাঁটিতে অবস্থানরত স্প্যানিশ সেনাদের পরিচালিত প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি প্রথম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত করেছিল। তারাই এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি শনাক্ত এবং রিপোর্ট করেছিল, যদিও তারা সরাসরি এটি ভূপাতিত করেনি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক