খারগ দ্বীপে তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি : ইরানের গণমাধ্যম
ইরানের জ্বালানি খাতের প্রধান কেন্দ্র খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ বিমান হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির ভিন্ন ভিন্ন দাবি পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বীপে ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ‘নিশ্চিহ্ন’ করার দাবি করলেও, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি। খবর বিবিসির।
ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মার্কিন হামলার সময় খারগ দ্বীপে ১৫টিরও বেশি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে তারা দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনী মূলত দ্বীপের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি নৌ ঘাঁটি, বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ও একটি হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, তেল স্থাপনাগুলো এই হামলার আওতার বাইরে ছিল।
খারগ দ্বীপটি তেহরানের জন্য একটি প্রধান অর্থনৈতিক জীবনরেখা। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বর্তমান অভিযানে তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো ধ্বংস করেছেন ও ইচ্ছাকৃতভাবেই তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেননি। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে ভবিষ্যতে এই তেল স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত। এরপর থেকে গত দুই সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানে প্রায় এক হাজার ৪৫০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০৩ জন শিশু রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইসরায়েল ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানছে। সংঘাতের ১৪তম দিনে এসে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের ঘোষণা এই যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ রূপ দেওয়ার সংকেত দিচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক