হরমুজ প্রণালিতে দিনে নির্দিষ্ট সংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে ইরান
যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। রুশ সংবাদসংস্থা ‘তাসকে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে পার হতে দেওয়া হবে না।
ইরানি সূত্রটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচল এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে ইরানের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল। এটি ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সরাসরি তত্ত্বাবধানে বিশেষ প্রটোকলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে। ওই কর্মকর্তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
তেহরানের প্রধান দাবি ও শর্ত-
আটকে পড়া অর্থ অবমুক্ত করা : দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীনই বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের আটকে পড়া সব সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তেহরান। তারা একে আলোচনার ‘নির্বাহী নিশ্চয়তা’ হিসেবে দেখছে।
আরও পড়ুন : ট্রাম্প আশ্বস্ত করলেও হরমুজ পাড়ি দিতে নারাজ চার শতাধিক জাহাজ
আরও পড়ুন : অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি : ফের লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম
আরও পড়ুন : ইরান খুব নিম্নমানের কাজ করছে, অসম্মানজনকও বলতে পারেন : ট্রাম্প
জাতিসংঘের রেজোলিউশন : যুদ্ধের অবসানকে অবশ্যই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। অন্যথায় ইরান পুনরায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও তীব্র গতিতে যুদ্ধ শুরু করার হুমকি দিয়েছে।
সেনা মোতায়েন ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ : এই দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সৈন্য সংখ্যা বাড়াতে পারবে না বলে শর্ত দিয়েছে ইরান। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চলছে বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
গত ৭ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক