যুদ্ধের সময় কোথায় আত্মগোপনে ছিলেন নেতানিয়াহু, যা জানা গেল
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি তার কার্যালয় থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ অভিযান চলাকালীন নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘গোপন সফর’ করেছিলেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেই নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে গোপন বৈঠকে মিলিত হন। যদিও এই সফরের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি, তবে একে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় একে ‘গোপন সফর’ হিসেবে দাবি করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সম্পূর্ণ প্রকাশ্য এবং তা আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠিত। কোনো গোপনীয়তা বা অঘোষিত ব্যবস্থার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক পরিচালিত হয় না। নেতানিয়াহুর গোপন সফরের দাবিটি ভিত্তিহীন।
যুদ্ধের সময় নেতানিয়াহু কোথায় ছিলেন তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও, এই সময়েই সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের তথ্য সামনে এসেছে। গত ৫ মে ইরানি হামলার পর দুই নেতার মধ্যে ফোনে কথা বলার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সরাসরি সাক্ষাৎ বা সফরের বিষয়টি নিয়ে দুই দেশ থেকে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই নেতানিয়াহুর বৈদেশিক সফর ও অবস্থান নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান ও গতিবিধি নিয়ে রহস্য এখনও কাটেনি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক