ভারতের কাছ থেকে নয়, ভারতে স্বাধীনতা চাই
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তিন সপ্তাহ কারাগারে কাটানোর পর গতকাল বৃহস্পতিবার মুক্তি পেয়েছেন ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি কানাইয়া কুমার। মুক্তি পাওয়ার পর কাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেন তিনি।
ওই বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকার ও বিজেপির মাতৃসংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সমালোচনা করেন কানাইয়া।
বক্তব্যে কানাইয়া অভিযোগ করে বলেন, কালো টাকা ফেরত আনা, ‘সাবকা সাথ সাবকা বিকাশ’ (সবার সঙ্গে সবার বিকাশ) স্লোগান রক্ষা করতে পারেননি মোদি। কথা বলেন মোদির রেডিও অনুষ্ঠান ‘মান কি বাত’ (মনের কথা) এবং টুইট ‘সত্যমেভ জয়তী’ (সত্যের জয় হবে) নিয়ে। তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি তুলে ধরেছে হিন্দুস্তান টাইমস।
১. আমরা ভারতের (ভারত রাষ্ট্রের) কাছ থেকে আজাদি (স্বাধীনতা) চাই না, ভারতে স্বাধীনতা চাই।
২. আমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অনেক জায়গায় পার্থক্য আছে। তবে আমি তাঁর টুইট সত্যমেভ জয়তীর সঙ্গে একমত। এই শব্দগুলো আমাদের সংবিধানে আছে।
৩. তারা (সরকার) কালো টাকা ফেরত আনা, কালো টাকা কমানো এবং সাব কা সাথ সাবকা বিকাশের অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু তারা চায়, এসব অঙ্গীকারের কথা আমরা ভুলে যাই। আমরা জনগণকে এসব কথা ভুলতে দেব না।
৪. যত বেশি দমন করবে, তত বেশি রুখে দাঁড়াব। এটা দীর্ঘ লড়াই। মাথানত না করে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। আমরা আরএসএস ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ব। আমরা ইতিহাস গড়েছি, ইতিহাস গড়ব। আমরা লড়াই করব। আমরা জিতব।
৫. মোদিজি কেবল বলেছেন মান কি বাত (মনের কথা), কিন্তু তিনি তা শোনেন না।
৬. আমি যে গ্রাম থেকে এসেছি, সেখানে একটি জাদু দেখানো হয়। লোকজন জাদু দেখিয়ে আংটি বিক্রি করে। বলে, সে আংটি সব ইচ্ছা পূরণ করবে...আমাদের দেশে এমন কিছু লোক আছে, যাঁরা বলেন, কালো টাকা ফেরত আনা হবে, সবার বিকাশ হবে।
৭. আমরা সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র ও সংবিধানে বিশ্বাস করি। আমরা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদকে (এবিভিপি) শত্রু মনে করি না, আমরা তাদের বিরোধীপক্ষ হিসেবে দেখি।
৮. এই হামলা (জেএনইউর ওপর) হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বিরুদ্ধে চলা আন্দোলন দমাতে, রুহিত ভেমুলার (আত্মহত্যা করা হায়দরাবাদের দলিত বিশ্ববিদ্যালয় গবেষক) ঘটনা ধামাচাপা দিতে।
৯. আপনি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে সাইবার সেল উল্টাপাল্টা ভিডিও বানিয়ে শায়েস্তা করবে আর হোস্টেলের কক্ষে কনডম গুঁজে দেবে।
১০. সীমান্তে যেসব সৈনিক মরছে, তাদের আমি স্যালুট জানাই। কিন্তু চরম দারিদ্র্যে নিপতিত হয়ে যেসব কৃষক আত্মহত্যা করছে, তাদের ব্যাপারে কী হবে? ওই কৃষকরাই বেশির ভাগ সেনার বাবা। আমার বাবা একজন কৃষক, ভাই সৈনিক।

অনলাইন ডেস্ক