যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করল ভারত
রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর চাপের মুখে নতি স্বীকার করেছে ভারত। দেশটির বৃহত্তম শিল্প প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ রাশিয়ান তেল আমদানির বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপকে নয়াদিল্লির সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর বিবিসির।
আরও পড়ুন : শেখ হাসিনার রায় ঘিরে ভারতের প্রতিক্রিয়া
মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত তেল শোধনাগারে রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি মূলত আগামী বছর কার্যকর হতে যাওয়া রাশিয়ার তেল থেকে তৈরি জ্বালানি আমদানির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাশিয়ার প্রধান তেল সংস্থাগুলোর ওপর কার্যকর হতে যাওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন : ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই ফের ভূমিকম্প
রিলায়েন্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া পণ্য-আমদানি নিষেধাজ্ঞাগুলো সম্পূর্ণরূপে মেনে চলার জন্য এই পরিবর্তন নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
রিলায়েন্সের এই পদক্ষেপকে হোয়াইট হাউস উষ্ণ স্বাগত জানিয়েছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, তারা এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য আলোচনায় অর্থবহ অগ্রগতির আশা করছে।
আরও পড়ুন : স্বর্ণের দামে বড় পতন
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে অর্থায়নের অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন গত আগস্টে ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। এই অতিরিক্ত শুল্কের মধ্যে রুশ তেল কেনার জন্য ২৫ শতাংশ জরিমানা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর আগে ভারতের মোট তেল আমদানির মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ রাশিয়া থেকে আসত। কিন্তু সস্তায় পাওয়ায় ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছিল। রিলায়েন্স একাই ভারতে আসা রুশ তেলের প্রায় ৫০ শতাংশ আমদানি করত।
আরও পড়ুন : সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ ব্যবহার করে যে পাঁচ দেশ
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো নাটকীয়ভাবে রাশিয়ার তেল আমদানি কমিয়ে দিচ্ছে।
কার্নেগি এনডোমেন্টের এক প্রতিবেদন অনুসারে, রিলায়েন্স অক্টোবরে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞাভুক্ত কোম্পানিগুলো থেকে অর্ডার ১৩ শতাংশ কমিয়েছে। একই সময়ে তারা সৌদি আরব থেকে মাসিক আমদানি ৮৭ শতাংশ এবং ইরাক থেকে ৩১ শতাংশ বাড়িয়েছে। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, ভারতের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত শোধনাগারগুলোও রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি স্থগিত করছে।
আরও পড়ুন : ভূমিকম্পের কতদিন পর হতে পারে আফটার শক, যা বলল এআই
এদিকে ভারতের এই পদক্ষেপের পর গ্লোবাল ট্রেড অ্যান্ড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) অজয় শ্রীবাস্তব দাবি করেছেন, যেহেতু ভারত মার্কিন প্রত্যাশা পূরণ করেছে, তাই ওয়াশিংটনের উচিত অবিলম্বে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বাতিল করা। এই শুল্ক বজায় রাখা হলে ইতোমধ্যে নাজুক হওয়া বাণিজ্য আলোচনা আরও ধীর হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক