মেক্সিকোতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২
মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চলে ৬ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে অনুভূত এই কম্পনে এখন পর্যন্ত অন্তত দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
মেক্সিকোর ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল গেরেরো রাজ্যের সান মার্কোস শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।
গেরেরোর গভর্নর ইভলিন সালগাডো জানিয়েছেন, সান মার্কোস শহরে নিজের ঘর ধসে চাপা পড়ে ৫০ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে ভূমিকম্পের পর আতঙ্কিত হয়ে দোতলার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে নামার সময় পড়ে গিয়ে ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
সান মার্কোসের মেয়র মিসায়েল লরেঞ্জো কাস্তিলো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে অন্তত ৫০টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। শহরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কমবেশি ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা একে ‘বিধ্বংসী’ আঘাত বলে বর্ণনা করেছেন।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজধানী মেক্সিকো সিটিও তীব্রভাবে কেঁপে ওঠে। কম্পন শুরু হলে রাজধানীর বাসিন্দারা আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
ভূমিকম্পের সময় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। ভূমিকম্পের সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। মেক্সিকো সিটির মেয়র ক্লারা ব্রুগাডা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, রাজধানীতে ১২ জন আহত হয়েছেন। তবে সেখানে বড় ধরনের কোনো অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
পাঁচটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় মেক্সিকো বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলটি মূলত শুকিয়ে যাওয়া হ্রদের নরম মাটির ওপর অবস্থিত হওয়ায় এখানে কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। ১৯৮৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ৮ দশমিকর ১ মাত্রার এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে মেক্সিকো সিটিতে প্রায় ১৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
দুর্যোগ মোকাবিলায় মেক্সিকো সিটির প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টে শক্তিশালী লাউডস্পিকার ও স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। শুক্রবারও কম্পন অনুভূত হওয়ার আগেই সাইরেন বেজে ওঠায় অনেক মানুষ দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন, যা প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকটা কমিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক