বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা সাময়িক : মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে, তবে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট সোমবার (২৩ মার্চ) বলেছেন, তেলের বাজারের এই অস্থিরতা ‘সাময়িক’। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে এক জ্বালানি সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
বার্ষিক ‘সেরা-উইক’ (সিইআরএ) শিরোনামে উচ্চপর্যায়ের এই জ্বালানি সম্মেলনে ১০ হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ বছর যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টিই সম্মেলনের মূল আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।
জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বাজারে কী প্রতিক্রিয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কি জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, ‘বাজার তার আপন গতিতেই চলে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তেলের দাম বেড়েছে মূলত সংশ্লিষ্ট সবার কাছে এই সংকেত পৌঁছাতে যে, যারা আরও উৎপাদন করতে সক্ষম—দয়া করে উৎপাদন বাড়ান।’
হিউস্টনের ওই সম্মেলনে ক্রিস রাইট বলেন, ‘তেলের দাম এখনো ততটা বাড়েনি যার ফলে চাহিদার ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী সংকট তৈরি করতে পারে।’
মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে জাহাজে থাকা তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বাস্তবসম্মত সমাধান গ্রহণ করেছে, যাতে সেগুলো বাজারে প্রবেশ করতে পারে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার এই পদক্ষেপগুলো একটি সাময়িক সংকটের উপশম মাত্র।’
ক্রিস রাইট আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র গত শুক্রবার থেকে তাদের কৌশলগত মজুদ থেকে তেল ছাড়তে শুরু করেছে। আগে ঘোষিত এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়া হবে, যা ৩০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর তেহরানের পাল্টা পদক্ষেপের ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে প্রবাহিত হয়। বর্তমানে মার্কিন ভোক্তারা প্রতি গ্যালন পেট্রোলের জন্য গড়ে প্রায় ৪ ডলার করে গুনছেন।
ইরান, কাতার এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার ফলে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের সরবরাহ সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
তবে সোমবার (২৩ মার্চ) তেলের বাজারে কিছুটা দরপতন দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ আলোচনার পর দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার সিদ্ধান্ত হঠাৎ স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়ায় এই পরিবর্তন আসে, যদিও তেহরান কোনো ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক