সর্বশেষ হামলায় ১০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২০০ রকেট ব্যবহারের দাবি আইআরজিসির
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের ওপর অতর্কিত হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে ভয়াবহ যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখন এক চূড়ান্ত সংঘাতের রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখল করে দেশটির জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ইরান ও তার সহযোগী ‘প্রতিরোধ ফ্রন্টগুলো’ সম্মিলিতভাবে পাল্টা আঘাত শুরু করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সর্বশেষ দফায় তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন কৌশলগত স্থান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে ১০০টিরও বেশি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্তত ২০০টি রকেট ব্যবহার করে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
আইআরজিসি-র দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কুয়েতের আল-আদিরি ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আল-আদিরি ঘাঁটিতে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ইউনিট আক্রান্ত হয়েছে ও সেখানে একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। এছাড়া কুয়েত সরকার জানিয়েছে, ইরানের হামলায় তাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাঙ্কে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-তে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই হামলা ‘পূর্ণ তীব্রতা ও শক্তি’ নিয়ে অব্যাহত থাকবে।
যুদ্ধের আঁচ লেগেছে সমুদ্রপথেও। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির জলসীমায় থাকা একটি তেল ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরানকে কোনো বিশেষ চুক্তিতে আসতে হবে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই সংঘাত আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে।
তবে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তার কোনো আস্থা নেই। ওয়াশিংটন থেকে বিভিন্ন বার্তা পাওয়া গেলেও বর্তমানে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক