সুদানে স্বর্ণ খনিতে ধস, ১৫ শ্রমিকের মৃত্যু
উত্তর সুদানের একটি পরিত্যক্ত সোনার খনি আংশিক ধসে পড়ে ১৫ জন খনি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দেশটির একটি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
সুদান মিনারেল রিসোর্সেস কোম্পানি (এসএমআরসি) নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মিশর সীমান্তের কাছাকাছি ওয়াদি হালফায় অবস্থিত বন্ধ হয়ে যাওয়া 'মোহাম্মদ তৌফিক' খনিতে শ্রমিকরা গোপনে প্রবেশ করেছিল। সে সময় খনির একাংশ ধসে পড়ে এবং এতে ১৫ জন খনি শ্রমিক নিহত ও একজন আহত হন।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, উভয় পক্ষের যুদ্ধ পরিচালনার খরচ মূলত সুদানের স্বর্ণ শিল্প এবং বিদেশি দাতাদের তহবিল থেকে জোগানো হচ্ছে।
এই যুদ্ধ সুদানের এমনিতেই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে এবং দেশের একটি বড় অংশকে কর্মহীন করে তুলেছে। যার ফলে অনেক মানুষ এই বিপজ্জনক কাজ (স্বর্ণের খোঁজ করা) করতে বাধ্য হচ্ছে।
অননুমোদিত এলাকা বা পরিত্যক্ত খনিগুলো থেকে যে অল্প পরিমাণের স্বর্ণ উত্তোলন করা হয়, তা থেকেই দেশটির সিংহভাগ স্বর্ণ উৎপাদিত হয়। এই খনিগুলোতে সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব রয়েছে এবং এখানে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা প্রায়শই আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক রোগব্যাধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে আড়াই কোটি সুদানবাসী তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়ার আগে ঐতিহ্যগত এই খনি শিল্পে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ নিয়োজিত ছিলেন।
আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম এই দেশটি মহাদেশটির অন্যতম শীর্ষ স্বর্ণ উৎপাদনকারী। এ বছর সুদান মিনারেল রিসোর্সেস কোম্পানি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ৭০ টন সোনা উৎপাদনের মাধ্যমে তারা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড ছুঁয়েছে।
তবে কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদিত স্বর্ণের একটি বড় অংশ চাদ, দক্ষিণ সুদান এবং মিশরের মধ্য দিয়ে সুদানের সীমান্ত পার হয়ে চোরাচালান করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা রপ্তানিকারক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছায়।
এ প্রসঙ্গে সেনাবাহিনী সমর্থিত সরকারের অর্থমন্ত্রী জিবরিল ইব্রাহিম জানান, গত বছরের ৭০ টন সোনার মধ্যে কেবল ২০ টন সোনা অফিশিয়াল বা বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রপ্তানি করা হয়েছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক