ট্রাম্পের দ্রুত বিজয়ের স্বপ্ন কী দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ে, ন্যূনতম মার্কিন প্রাণহানি ও অর্থনীতির ওপর বিশেষ প্রভাব না ফেলেই ইরান অভিযান শেষ করা। কিন্তু যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই সেই হিসাব পাল্টে যেতে শুরু করেছে। ভেনিজুয়েলার মাদুরোকে আটক করা কিংবা ইয়েমেনে হুথি দমনের মতো দ্রুতগতির সাফল্য ইরানে কাজ করছে না, বরং এক দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল সংকটের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। খবর দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা ছাপিয়ে ইতোমধ্যেই ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিমান হামলায় ১৭৫ জন প্রাণ হারানোর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বাড়ছে, ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। শেয়ার বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধের পেছনে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রতিদিন কয়েকশ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে।
প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, আমেরিকা এই সংঘাত কমানোর পরিবর্তে আরও ত্বরান্বিত করছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আরও বোমারু বিমান ও যোদ্ধা আসছে।’ যদিও এখন পর্যন্ত ইরানে কোনো স্থলসেনা পাঠানো হয়নি, তবে প্রশাসন এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি।
কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ও সাবেক আর্মি রেঞ্জার জেসন ক্রো বলেছেন, ট্রাম্প যে ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তিনি নিজেই এখন সেই একই পথে হাঁটছেন। ক্রো-এর মতে, ‘ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় ও হাজার হাজার প্রাণহানির সেই চেনা ধ্বংসাত্মক পথেই আমরা আবার ফিরে যাচ্ছি।’
ট্রাম্প কুর্দি নেতাদের সঙ্গে কথা বললেও ইরানি সরকারকে উৎখাত করার জন্য তাদের সরাসরি অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছাননি। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের গবেষক জন হফম্যান বলেন, ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার সাফল্যের পর নিজেকে অজেয় মনে করেছিলেন, কিন্তু ইরান ভেনিজুয়েলা নয়। এখানে খরচ ও ঝুঁকি—দুটোই আকাশচুম্বী।
অন্যদিকে, প্রবীণ কূটনীতিক ইলিয়ট আব্রামস মনে করেন, ইরানি শাসনব্যবস্থাকে ধ্বংস করার সুবিধা বিশাল। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি চিরতরে শেষ হয়ে যাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
তবে হফম্যানের পাল্টা যুক্তি হলো, ইরানকে অস্থিতিশীল করা বা জাতিগত গোষ্ঠীকে অস্ত্র দিয়ে দেশটিকে খণ্ড-বিখণ্ড করার চেষ্টা করলে এমন এক ভয়াবহ প্রক্সি যুদ্ধ শুরু হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্য আগে কখনও দেখেনি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক