মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় কত ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের?
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ড) ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (CSIS) এবং বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। খবর বিবিসির।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ব্যয়বহুল ‘থাড’ (Thaad) মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের একটি রাডার ধ্বংস হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া কুয়েত, কাতার এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩১০ মিলিয়ন ডলারের।
বিবিসি ভেরিফাই-এর স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কুয়েতের আলি আল-সালিম, কাতারের আল-উদেইদ এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে একাধিকবার নিখুঁত হামলা চালিয়েছে ইরান। ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়া এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবস্থান সম্পর্কে তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে।
যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (Hrana) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা তিন হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে এক হাজার ৪০০ জনই বেসামরিক নাগরিক। এ ছাড়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে নিরস্ত্র করার লক্ষ্য পূরণে তারা সফলভাবে এগোচ্ছেন। তবে পেন্টাগন এই যুদ্ধের জন্য আরও ২০০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাফ জানিয়েছেন, ‘শত্রু নিপাত করতে অর্থের প্রয়োজন হবেই।’ এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক