মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে ‘জরুরি মানবিক পরিস্থিতি’ ঘোষণা জাতিসংঘের
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে একটি ‘বড় ধরনের জরুরি মানবিক পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং পালিয়ে আসা সব বেসামরিক নাগরিকের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, গত শনিবার ইরান অভিমুখে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই মধ্যপ্রাচ্য সংকট ইতিমধ্যে অনেক মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছে এবং এই সংকট ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে।
জেনেভায় আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির জরুরি বিষয়ক প্রধান এবং আন্তঃআঞ্চলিক শরণার্থী সমন্বয়কারী আয়াকি ইতো বলেন, "ইউএনএইচসিআর মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংকটকে একটি ‘বড় ধরনের জরুরি মানবিক পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যার জন্য পুরো অঞ্চলজুড়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।"
আয়াকি ইতো আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক শত্রুতা ও হামলার তীব্রতা বিরাট আকারের জনসংখ্যাকে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করেছে। পাশাপাশি আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তের সংঘর্ষও হাজার হাজার পরিবারকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।’
আয়াকি ইতো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এই অঞ্চলগুলোতে ইতোমধ্যে শরণার্থী, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অথবা বিদেশ থেকে ফিরে আসা লোকেরাসহ প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তিনি বলেন, ইউএনএইচসিআর এই অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আয়াকি ইতো জোর দিয়ে বলেন, যেসব বেসামরিক নাগরিকের যাতায়াত বা সীমান্ত অতিক্রম করা প্রয়োজন, তারা যেন নিরাপত্তা পায় তা নিশ্চিত করা জরুরি।
আজ শুক্রবার ইরান ও লেবাননে নতুন করে হামলা হয়েছে এবং ইসরায়েল এই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে—যা দ্রুত পুরো অঞ্চলে এবং অঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক